উচ্চ শিক্ষা কাঠামো আলোচনা কর

অথবা, উচ্চ শিক্ষা কাঠামোর বর্ণনা দাও।

অথবা, উচ্চ শিক্ষা কাঠামোর বিস্তারিত আলোচনা কর।

অথবা, উচ্চ শিক্ষা কাঠামো আলোচনা কর।

উত্তর : 

ভূমিকা : মূল বা উচ্চ শিখরে পৌঁছে ছাড়া জাতির উন্নতি করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ জাতির উন্নতি করতে হলে উচ্চ শিখরে পৌছাতে হবে। সেজন্য জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘বল বীর, বল উন্নত মম শিরা। শিক্ষা মানবজীবনের মৌলিক চাহিদাসমূহের মধ্যে অন্যতম। শিক্ষা মানুষকে অজ্ঞতা ও নিরক্ষরতার হাত থেকে মুক্ত করে সুশিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে। প্রকৃত অর্থে শিক্ষা হলো এক ধরনের বিশেষ সংস্কার সাধন। আর উচ্চ শিক্ষা সে সংস্কার সাধনের পরিপূর্ণতা দিয়ে থাকে। অর্থাৎ উচ্চ শিক্ষা হচ্ছে জাতির মৌলিক ও প্রধান আলোক বাতি। যে আলোক বাতি যুগ যুগ ধরে আলো ছড়িয়ে যায়। তাই একটি দেশের আর্থ সামাজিক কাঠামো পরিবর্তনে উচ্চ শিক্ষার গুরুত্ব অপরিহার্য।

উচ্চ শিক্ষা কাঠামো : উচ্চ শিক্ষার ভিত্তির উপর জাতির শিক্ষা ব্যবস্থা টিকে থাকে। উচ্চ শিক্ষা মূলত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পাসের পর শুরু হয়। অর্থাৎ অনার্স, মাস্টার্সসহ প্রভৃতি ডিগ্রি অর্জন করা। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা কাঠামোতে তিন ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যথা : 

১. বিশ্ববিদ্যালয় 

২. বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ 

৩. সাধারণ কলেজ।

১. বিশ্ববিদ্যালয় : বাংলাদেশের প্রধান ও সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়। আমাদের দেশের দুই ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। দেশে বর্তমানে ৩৭টি সরকারি এবং ৭২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। নিম্নে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হলো :

(i) বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাক্রম : বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে (সরকারি ও বেসরকারি) চার বছর মেয়াদী অনার্স ও এক বছর মেয়াদী মাস্টার্স কোর্স রয়েছে। এসব কোর্সের পর সার্টিফিকেট প্রদান করা হয় ।

(ii) বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যসূচি : বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচি ব্যাপক। এখানে একজন শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি হয়ে একটি বিষয়ের উপর ব্যাপক অধ্যয়নের মধ্য দিয়ে অনার্স, মাস্টার্স সমাপ্ত করতে হয়।

(ii) পরীক্ষা পদ্ধতি : বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু রয়েছে। এ পদ্ধতিতে প্রতিবছর দুটি সেমিস্টার। অর্থাৎ চার বছরে আট সেমিস্টার শেষ করে অনার্স পূর্ণ করতে হয় এবং পরবর্তী ২টি সেমিস্টার শেষ করে মাস্টার্স শেষ করতে হয়।

(iv) ফলাফল : বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮টি সেমিস্টারের ফলাফল একত্র করে চূড়ান্ত অনার্স রেজাল্ট ও পরবর্তী দুই সেমিস্টার একত্র করে মাস্টার্স রেজাল্ট প্রকাশ করা হয় গ্রেডিং পদ্ধতির মাধ্যমে।

২. বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত কলেজসমূহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ।

(i) বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষাক্রম : এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো চার বছরে অনার্স ও এক বছরে মাস্টার্স কোর্স করতে হয়। উভয় কোর্সে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

(ii) পাঠ্যসূচি : বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পাঠ্যসূচি হয়ে থাকে। এখানে বর্তমানে এস. এস. সি / সমমান এবং এইচ. এস. সি./সমমান এর ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তি করানো এবং বিষয় প্রদান করা হয়।

(iii) পরীক্ষা পদ্ধতি : জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিয় তত্ত্বাবধানের অধীনে একযোগে সারা দেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষক দ্বারা প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয় ।

(iv) ফলাফল : জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো।

৩. সাধারণ কলেজ : সাধারণ কলেজ বলতে ডিগ্রি কলেজকে বুঝায়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি কলেজের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এখানে সাধারণত তিন বছর মেয়াদী ডিগ্রি কোর্স ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। উচ্চ মাধ্যমিকের মতো এখানেও তিনটি বিভাগে রয়েছে (

ক) বিজ্ঞান বিভাগ, 

(খ) মানবিক বিভাগ ও 

(গ) বাণিজ্য বিভাগ ।

(ক) বিজ্ঞান বিভাগ : বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ডিগ্রি (পাস) কোর্সের সমান সূচক অর্জনকে B.SC (Bachelor of Science) বলা হয়। বিজ্ঞান বিভাগের অন্যান্য বিষয়ের সাথে বাংলা ও ইংরেজি আবশ্যিক করা হয়েছে।

(খ) মানবিক বিভাগ মানবিক বিভাগকে B. A (Bachelor of Arts) ও B.SS ( Bachelor of Social Science) বলা হয়। এ বিভাগে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আবশ্যিক বিষয় হিসেবে অন্যান্য বিষয় হতে নির্বাচন করতে হয়।

(গ ) বাণিজ্য বিভাগ : বাণিজ্য বিভাগ থেকে ডিগ্রি অর্জনকারীর ডিগ্রিকে B.B.S (Bachelor of Business Studies বা B. Com (Bachelor of Commerce) বলা হয়। এ বিভাগেও বাংলা ও ইংরেজি আবশ্যক।

উপসংহার : উচ্চ শিক্ষা জাতির মূল হাতিয়ার। উচ্চ শিক্ষা জাতিকে নিয়ে যায় এক উজ্জ্বল দিগন্তে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, যে উচ্চ শিক্ষা জাতির মূলমন্ত্র সে উচ্চ শিক্ষা বিভিন্নভাবে সমস্যায় জর্জরিত। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমস্যাগুলো হলো : সেশন জট, নোংরা ছাত্ররাজনীতি, ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম ইত্যাদি। তাই এ ধরনের সমস্যাগুলো সমাধানে যথাযথ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেয়া জরুরি। অন্যথায় দেশ ও জাতি মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হবে। তাই যত দ্রুত সম্ভব এর কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *