পরিসংখ্যান পদ্ধতি কি? সমাজ মনোবিজ্ঞানে পরিসংখ্যান পদ্ধতির সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ আলোচনা কর।

অথবা, পরিসংখ্যান পদ্ধতি সম্পর্কে যা জান তা বিশ্লেষণ কর।

উত্তর : 

ভূমিকা : আধুনিককালে সমাজ মনোবিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান পদ্ধতির ব্যাপক প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু পরিসংখ্যান পদ্ধতিতে সমাজ মনোবিজ্ঞান গবেষণা অন্যান্য যে কোনো পদ্ধতি থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। পরিসংখ্যান পদ্ধতির মাধ্যমে অন্যান্য পদ্ধতির মত তথ্য সংগ্রহ করা যায় না। বরং পরিসংখ্যান পদ্ধতি হলো অন্যান্য পদ্ধতিতে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রক্রিয়াজাত করা। যে-কোনো সামাজিক গবেষণায় পরিসংখ্যান পদ্ধতির গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ সংগৃহীত তথ্য বাস্তবে প্রকাশযোগ্য করে তুলতে এ পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই।

পরিসংখ্যান পদ্ধতি : পরিসংখ্যান পদ্ধতির প্রধান কাজ হলো সংগৃহীত তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে তা প্রক্রিয়াজাত করা। পরিসংখ্যান পদ্ধতিতে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণের জন্য গড়, মধ্যমা, প্রচুরক, আদর্শ বিচ্যুতি, গড় বিচ্যুতি, শতমিক বিন্দু, শতমিক ক্রম, সারণি, প্রতীক প্রভৃতিতে পরিসংখ্যান পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। দুটো ঘটনা বা চলের সম্পর্ক নির্ণয়ের জন্য সহসম্পর্ক এবং একটা চলের পরিবর্তনের ফলে অন্যটিতে কি ধরনের বা কতটুকু পরিবর্তন ঘটল তা জানার জন্য নির্ভরণ ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া প্রকল্প যাচাই করার জন্য T-test, Z-test, F-test প্রভৃতি পরীক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় । সমাজ মনোবিজ্ঞান গবেষণায় বিভিন্ন পর্যায়ে পরিসংখ্যান পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। যথা:

১. নির্ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হবার লক্ষ্যে পরীক্ষণের পরিকল্পনা বা নকশা নির্ধারণে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

২. এ পদ্ধতির অন্যতম প্রধান কাজ হলো উপাত্তের বিশ্লেষণ ও সারলীকরণ।

৩. কতগুলো নমুনার উপর ভিত্তি করে সমগ্র জনসমষ্টি সম্পর্কে একটা অনুমান বা ধারণা পাওয়া যায়। এই সংখ্যাতাত্ত্বিক অন্যান্য কতটুকু নিশ্চিত পরিসংখ্যান পদ্ধতির সাহায্যে তা নির্ণয় সম্ভব।

অর্থাৎ পরিসংখ্যান পদ্ধতি এমন একটি গবেষণামূলক পদ্ধতি যার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে তত্ত্বে উন্নীত করা যায়। অর্থাৎ পরিসংখ্যান পদ্ধতি হলো তথ্য বিশ্লেষণ কৌশল ।

পরিসংখ্যান পদ্ধতির সুবিধা : সমাজ মনোবিজ্ঞান গবেষণায় পরিসংখ্যান পদ্ধতির কতিপয় সুবিধা রয়েছে। নিম্নে পরিসংখ্যান পদ্ধতির সুবিধাগুলো উল্লেখ করা হলো :

১. পরিসংখ্যান পদ্ধতির সাহায্যে প্রাপ্ত তথ্যকে সংখ্যার সাহায্যে প্রকাশ করা যায়।

২. এ পদ্ধতির সাহায্যে একটি প্রতিনিধিত্বমূলক নমুনা বাছাই করা যায়।

৩. এ পদ্ধতিতে প্রাপ্ত তথ্যের বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যাকরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ অত্যন্ত সহজ।

৪. পরিসংখ্যান পদ্ধতি উপাত্ত সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন নকশা প্রণয়নে সাহায্য করে ।

৫. নমুনা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সমগ্রক সম্পর্কিত অনুমান সঠিক কিনা তা যাচাই করা যায় ।

৬. বিপুল পরিমাণ তথ্যকে সংক্ষেপে এবং অর্থপূর্ণভাবে এ পদ্ধতির সাহায্যে প্রকাশ করা যায় ।

পরিসংখ্যান পদ্ধতির অসুবিধা : সমাজ মনোবিজ্ঞান গবেষণায় পরিসংখ্যান পদ্ধতির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো।

১. এই পদ্ধতিতে মাঠ পর্যায়ে কোনো তথ্য সংগ্রহ করা যায় না।

২. পরিসংখ্যান পদ্ধতিতে তথ্য উপাত্ত সম্পর্কিত সামগ্রিক রহস্য উদঘাটন করা যায় না।

৩. প্রাপ্ত তথ্য সুষম না হলো এ পদ্ধতি অনুপযোগী ।

৪. এ পদ্ধতিতে গুণবাচক তথ্য ব্যাখ্যা করা সহজ নয়।

৫. বিপুল সংখ্যক নমুনা বিশ্লেষণে এ পদ্ধতি অকার্যকর।

উপসংহার : পরিবেশে বলা যায় যে, সমাজ মনোবিজ্ঞানের তথ্যসমূহকে সংখ্যার মাধ্যমে অর্থবহ করে তোলার ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান পদ্ধতির ভূমিকাই মুখ্য। পরিসংখ্যান পদ্ধতিতে গাণিতিক বিশ্লেষণের সাহায্যে উপাত্তসমূহকে সংখ্যার মাধ্যমে উপস্থাপন সহজ। এছাড়া বিভিন্ন আচরণজনিত ঘটনার অনুবন্ধমূলক তথ্য প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে পরিসংখ্যান পদ্ধতি কাজ করে। বর্তমানকালে প্রায় সকল প্রকার গবেষণা কার্যের ফলাফল সহজ, সংক্ষিপ্ত, নির্ভুল আকারে প্রকাশের জন্য পরিসংখ্যান পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *