শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার কারণ ও তার প্রতিকারগুলো লিখ

প্রাথমিক স্কুল থেকে শিশুরা ঝরে পড়ার কারণ কী কী? হতে পারে বলে তুমি মনে কর। শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে কী কী? পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে?

অথবা, শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার কারণ ও দূরীকরণের উপায়গুলো লিখ।

উত্তর : 

ভূমিকা : শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ। কেননা, আজকের শিশু আগামী দিনে জাতিকে এগিয়ে নিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে। প্রত্যেক অভিভাবক চান তার ছেলে-মেয়েরা শিক্ষিত হোক। আর এ প্রত্যাশা নিয়েই পিতা-মাতা তাদের সন্তাদের স্কুলে ভর্তি করেন। এক জরিপে দেখা যায়, বর্তমান দেশের প্রায় ৯৫% ভাগ ছেলে-মেয়ে প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি হয়ে থাকে। এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনের উপযোগী প্রায় ১ কোটি শিশু বাংলাদেশে আছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য, বাংলাদেশের আগামী দিনের কর্ণধাররা প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পূর্বেই নানাধিক কারণে ঝরে পড়ছে। আর এ ঝরে পড়াটা জাতির জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।

প্রাথমিক স্কুল থেকে শিশুর ঝরে পড়ার পিছনে কারণসমূহ : প্রাথমিক স্কুল থেকে শিশুর ঝরে পড়ার পিছনে কিছু মৌলিক ও যৌক্তিক কারণ রয়েছে। নিম্নে তার কারণগুলো তুলে ধরা হলো :

১. অসচেতনতা : বাংলাদেশ গ্রাম প্রধান দেশ। এ দেশের অধিকাংশ অভিভাবক সচেতন নয়। শিক্ষা কি ও কেন সে বিষয়ে তারা কিছুই জানে না ৷ সেজন্য দেখা যায়, তাদের সন্তানদের বেশিদূর পড়াতে চান না। কোনো রকম নিজের নাম ঠিকানা আর কিছু হিসাব জানতে পারলেই তাদের সন্তানদের পড়া লেখা শেষ করে দেন। ফলে প্রাথমিক স্কুল থেকে শিশু ঝরে পড়ছে।

২. দারিদ্র্য : প্রাথমিক স্কুল থেকে শিশু ঝরে পড়ার অন্যতম একটি কারণ হলো দারিদ্র্য। আমাদের দেশে অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র্য জীবন যাপন করছে। আর এ দারিদ্র্যতার রোষানলের শিকার হচ্ছে আমাদের শিশুরা। আমাদের মা-বাবারা লেখা-পড়া চালিয়ে যাওয়ার মতো খরচ বহন করতে পারছে না ফলে স্কুল ত্যাগ করতে হচ্ছে।

৩. শিশুশ্রম : পিতা-মাতারা সংসার পরিচালনায় সহায়তার লক্ষ্যে শিশুদের কাজে লাগিয়ে দিচ্ছে। প্রতিদিন শিশুরা কাজ করে প্রায় ৫০-৭০ টাকার মতো পেয়ে থাকে। যা অনেক পিতা-মাতার কাছে অনেক কিছু। তাই পরিবার শিশুর স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে কাজে লাগিয়ে দেয়।

৪. অহেতুক ভয় : অধিকাংশ শিশুরা শিক্ষককে ভয় পায়। তারা ভাবে পড়া না পারলে শিক্ষক তাদের কঠোর শাস্তি দেবেন। ফলে তারা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।

৫. অমনোযোগিতা: শিশুদের স্কুল থেকে ঝরে পড়ার এটি একটি অন্যতম কারণ। অধিকাংশ শিশুরা অমনোযোগী। তারা শিক্ষার মধ্যে কোনো আনন্দ পায় না। ফলে স্কুল ত্যাগ করে।

৬. ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা : বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ। শিশুদের জন্য প্রায় এক ডজন পাঠ্যবই রাখা হয়। শিশুরা এত বই দেখে ভয় পায় এবং স্কুলে যেতে অপরাগতা প্রকাশ করে। প্রাথমিক স্কুল থেকে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া দূরীকরণের উপায়সমূহ । অভিভাবকদের শিক্ষার গুরুত্ব বুঝাতে হবে।

২. দরিদ্র শিশুদের জন্য উপবৃত্তি সম্প্রসারণ করতে হবে।

৩. শিক্ষাকে আনন্দময় করে তুলতে হবে। অর্থাৎ আনন্দের সাথে শিক্ষা। সেজন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা, সাংস্কৃতিক

কর্মকাণ্ড, ভ্রমণ ইত্যাদির সম্প্রসারণ ঘটাতে হবে।

৫. পাহাড়ী এলাকায় এবং দূরবর্তী ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছেলেমেয়েদের জন্য বিদ্যালয়ে হোস্টেলের ব্যবস্থা করতে হবে।

৬. মেয়ে শিশুদের মধ্যে ঝরে পড়ার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে অধিক হওয়ায় তারা যাতে ঝরে না পড়ে সেদিকে

লক্ষ্য রাখতে হবে। মেয়েরা যেন বিদ্যালয়ে কোনভাবে উত্যক্ত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

৭. ২০১৮ সালের মধ্যে সকল শিক্ষার্থী যেন অষ্টম শ্রেণি শেষ করে সেই লক্ষ্যে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *