শিল্পক্ষেত্রে কর্মীদের আচরণে প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিক উপাদান উল্লেখ কর

অথবা, শিল্পক্ষেত্রে কর্মীদের আচরণে প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিক নিয়ামকসমূহ লিখ।

উত্তর : 

ভূমিকা: মানুষ কোনো ঘটনা বা কারণের প্রেক্ষিতে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে, যা তার আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। মানুষ তাঁর কার্যাবলি সম্পাদনের সময় যে অভিব্যক্তি প্রকাশ করে তাকেই আচরণ বলে। আচরণ হলো কার্যের একটি উপায়। মানুষ মনে মনে যা চিন্তা করে এবং যেসব কাজের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয় তাকেই আচরণ বলা চলে। সংগঠনের লক্ষ্য অর্জনের জন্য আচরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব তার আচরণের উপর প্রভাব ফেলে।

শিল্পক্ষেত্রে কর্মীদের আচরণের প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিক উপাদান : ব্যক্তিক উপাদান সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তির নিজস্ব বিশ্ব চেতনা, গঠন-গড়ন, ইচ্ছা-অনিচ্ছা, আগ্রহ অনাগ্রহের উপর নির্ভরশীল। নিম্নে শিল্পক্ষেত্রে কর্মীদের আচরণে প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিক উপাদান উল্লেখ করা হলো:

১. প্রত্যক্ষণ : একজন মানুষ কোন বিষয়কে যে দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে তাই প্রত্যক্ষণ। প্রত্যক্ষণ একটি সংবেদনশীল উপাদান। ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা লক্ষ্যণীয়। কারণ কোন দু’জন ব্যক্তির শ্রবণ, অনুভব, দেখার ক্ষমতা এক নয়। এজন্য এদের মধ্যে আচরণগত পার্থক্য দেখা যায়।

২. মনোভাব : মনোভাব মানুষের মানসিক দৃষ্টিভঙ্গিকে তুলে ধরে। অনুকূল মনোভাব প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালো চিন্তা ও আচরণে উৎসাহ দেয় আর প্রতিকূল মনোভাব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে। এতে প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

৩. ব্যক্তিত্ত্ব : ব্যক্তিত্ব ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিতে বিভিন্নরকম হয় বলে তাদের আচরণেও পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। এর মধ্যে অনুভূতি, মেজাজ, সাহস, সহনশীলতা, অভিমান, পছন্দ-অপছন্দ বিষয়গুলো একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠনে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। ব্যক্তিত্বই মানুষে মানুষে আচরণের পার্থক্যকে সুস্পষ্ট করে তোলে।

৪. মূল্যবোধ : মূল্যবোধ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য তৈরি করে। মানুষের মানসিক দৃষ্টিভঙ্গিকে তৈরি করে। সাধারণত সহনীয়তা, সততা, মানসিক উদারতা, দৃঢ়তা ইত্যাদি দ্বারা মূল্যবোধ নিয়ন্ত্রিত হয়। মূল্যবোধ উন্নত হলে আচরণ ভালো হয় ।

৫. দৈহিক বৈশিষ্ট্য : ব্যক্তির দৈহিক গঠন, উচ্চতা, সুস্থতা, রং, দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি, আকৃতি ইত্যাদি দৈহিক বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত। আর এসব বৈশিষ্ট্য বাহ্যিক আচরণকে প্রভাবিত করে। দেহধারী একজন মানুষ সমস্যার সমাধান সম্পর্কে এক ধরনের চিন্তা করে। ক্ষীণকায় একজন দুর্বল মানুষ ঠিক সেভাবে চিন্তা করে না। একজন চায় শক্তি প্রয়োগ করে সমাধানে আসতে আর অন্যজন চায় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে।

৬. প্রেষণা ও আগ্রহ : কোনো বিষয়ের প্রতি ব্যক্তি আগ্রহ সে জিনিসের প্রতি ব্যক্তির স্বতঃস্ফূর্ততার সৃষ্টি করে ফলে ব্যক্তি প্রেরণা লাভ করে। প্রেষনা ও আগ্রহের প্রকৃতির উপর আচরণ নির্ভর করে। উদ্দীপ্ত মানুষ যতটা স্বতঃস্ফূর্ততার সাথে কাজ করতে চায়, একজন অনাগ্রহী মানুষ তত স্বতঃস্ফূর্ত হয় না এবং বিরূপ আচরণ করে।

৭. বয়স : একেক বয়সের ব্যক্তির আচরণ, যৌবনের আচরণ একটি বেপরোয়া ও সাহসী হলেও বার্ধক্যে সেরকম থাকে না। বার্ধক্য একজন মানুষের মৃত্যু চিন্তা তাকে হতোদ্যম করে ফেলে। সুতরাং বয়স মানুষের আচরণ নির্ধারণে একটি গরুত্বপূর্ণ উপাদান ।

৮. লিঙ্গ: ব্যক্তির লিঙ্গ তার আচরণকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। সাধারণত পুরুষরা সাহসী ও উদ্দমী হয়। পক্ষান্তরে মহিলারা এ ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকে। ফলে তাদের চাহিদা, কামনা, তথা আচরণও কিছুটা ভিন্ন হয়। তাছাড়া একজন মহিলা কর্মী পুরুষ কর্মীর চেয়ে কাজে অনেক বেশি মনোযোগী।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায় যে, মানুষ মনে মনে যা চিন্তা করে এবং যেসব কাজের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয় তাকেই আচরণ বলা হয়। একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব, মনোভাব আবেগ ইত্যাদি তার আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। শিল্পক্ষেত্রে নিয়োজিত কর্মীর আচরণ তার কাজের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। সাংগঠনিক আচরণ কর্মীর কর্মে প্রকাশ পায়। তাই কর্মীকে সঠিক আচরণে প্রশিক্ষিত করতে হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *