সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্মের প্রভাব তুলে ধর

অথবা, সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম -কথাটির যথার্থতা প্রমাণ কর।

অথবা, ধর্ম সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : 

ভূমিকা : ধর্ম মানুষের জন্মগত সম্পত্তি। অর্থাৎ প্রত্যেক ব্যক্তিই কোন না কোন ধর্ম তার পরিবার অথবা সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে ধারণ করছে। ধর্ম প্রত্যেক ব্যক্তির বিশ্বাসের সমষ্টি। ধর্ম মানুষকে প্রভাবিত করে। অর্থাৎ ধর্ম মানুষকে সকল দিক থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে। বিশেষ করে ইসলাম ধর্মকে বলা হয় পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। তাই সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্মের ভূমিকা : ধর্মকে বলা হয় একটি প্রধান ও সার্বজনীন মানবীয় প্রতিষ্ঠান। নিম্নে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ধর্মের ভূমিকা আলোচনা করা হলো :

১. ব্যক্তি গঠনের মাধ্যম ধর্ম মানুষের পরম বন্ধু। ধর্ম একটি গঠনমূলক প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি গঠনের অন্যতম হাতিয়ার। ধর্ম ব্যক্তিকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসে। অর্থাৎ বিভিন্ন অপরাধ থেকে বিরত রেখে সৎ ও নিষ্ঠাবান হিসেবে গড়ে তুলে। আর এভাবেই ‘ধর্ম’ সামাজিক নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

২. সামাজিক ঐক্য সৃষ্টি : মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে জীবন যাপন করতে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে সমাজে শান্তি ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বিরাজ করে। ধর্ম পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতাকে সওয়াব বা পুণ্যের কাজ আখ্যায়িত করে পরস্পরকে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করে। এছাড়া প্রতিবেশীর খোঁজ খবর নিতে ধর্মে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তাই তাদের মাঝে সামাজিক ঐক্য তৈরি হয়। আর এভাবেই ধর্ম সামাজিক ঐক্য সৃষ্টির মাধ্যমে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

৩. ব্যক্তির কুপ্রবৃত্তি দমন : ধর্ম কেবল ব্যক্তিকে সমাজে সৎ ও ন্যায়পরায়ণ হিসেবেই উপস্থাপন করে না, ব্যক্তির কুপ্রবৃত্তিকেও দমন করে। অসৎ বা অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হলে জাহান্নাম বা নরকে যাওয়ার কথা ধর্মে উল্লেখ করা হয়। ফলে ব্যক্তি তার কুপ্রবৃত্তি দমন করে আদর্শ জীবন যাপন করে।

৪. অবৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জন রোধ : ধর্ম মানুষের অবৈধ পন্থায় অর্থ আয়ের পথ রোধ করে। বিভিন্ন ধর্মে অবৈধভাবে টাকা অর্জন করা থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। যেমন : ইসলাম ধর্মে অবৈধ উপার্জন, সুদ খাওয়া ও ঘুষ দেয়া- নেয়া উভয়ই হারাম করা হয়েছে। তাই অবৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জনের পথ বন্ধ করে ধর্ম সামাজিক নিয়ন্ত্রণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে সমাজকে শান্তিময় করে তুলে।

৫. শান্তির বিধান রেখে : ধর্মে বিশেষ করে ইসলাম ধর্মে বিভিন্ন অপরাধের জন্য আলাদা আলাদা শাস্তির বিধান রয়েছে।  ফলে মানুষ এসব কঠোর শাস্তির ভয়ে অপরাধ থেকে বিরত থাকে। তাই বলা যায়, ধর্ম শাস্তির বিধান বা আইন রেখে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ করছে।

৬. আদর্শ জীবন দর্শন উপস্থাপনা: ধর্ম মানুষকে আত্মত্যাগ শেখায়। ফলে মানুষ তার লোভ লালসাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এ ছাড়াও ধর্ম মানুষকে দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে পরকাল বা আখেরাতমুখী করে। ফলে মানুষ বেশি বেশি  কথা ভাবে এবং তার পরবর্তী জীবন নিয়ে চিন্তা করে। ফলে সে আদর্শ জীবন যাপন করতে শিখে।

উপসংহার : সামাজিক নিয়ন্ত্রণ হলো সমাজকে কলুষিত করে এমন কাজ থেকে ব্যক্তিকে বিরত রাখা এবং সমাজ থেকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ দূর করে শান্তিপূর্ণ সমাজ তৈরির প্রক্রিয়া। আর এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের অন্যতম হাতিয়ার হলো ধর্ম। কেননা, পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র ধর্মই ব্যক্তিকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখতে পেরেছে। তাই পরিশেষে বলা যায়, সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ধর্মের ভূমিকা ব্যাপক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *